fbpx
প্রশ্নোত্তর

মদ-গাজা ও নেশা গ্রহণের ভয়াবহতা ও শাস্তি

▬▬▬▬●●●▬▬▬▬
প্রশ্ন: “মদ পান করলে ৪০ দিন নামাজ কবুল হয় না” এ কথা সত্যতা কতটুকু?
আর এ কথা কি ঠিক যে, “মদ-গাজা সেবন করলে কি চল্লিশ দিন শরীর অপবিত্র থাকে?” ইসলামের দৃষ্টিতে মদ ও নেশা গ্রহণের শাস্তি কি?

উত্তর:

কোনো ব্যক্তি মাদক বা নেশা দ্রব্য সেবন করে মাতাল বা নেশাগ্রস্ত হলে আল্লাহ তাআলা তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করবেন না-এ কথা সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত। তবে এ কারণে চল্লিশ দিন শরীর অপবিত্র থাকে এমন কথা হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত নয়। এ পূরোটা সময় শরীর নাপাক থাকলে এ অবস্থায় তার জন্য সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন স্পর্শ, কাবা ঘরের তওয়াফ ইত্যাদি জায়েজ হত না। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে এ সকল ইবাদত করতে তার কোনো বাধা নেই।

❑ চল্লিশ দিনের সালাত কবুল না হওয়া এবং আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তি:

আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَنْ شَرِبَ الْـخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، فَإِنْ مَاتَ دَخَـلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَّسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، قَالُوْا: يَا رَسُوْلَ اللهِ! وَمَا رَدْغَةُ الْـخَبَالِ؟ قَالَ: عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ.
‘‘কেউ মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হলে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তবে যদি সে তওবা করে নেয় তা হলে আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করবেন।

এরপর আবারও যদি সে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তা হলে আবারও তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অবশ্য যদি সে তওবা করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তার তওবা কবুল করবেন।

এরপর আবারও যদি সে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তা হলে আবারও তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। কিন্তু যদি সে তওবা করে নেয় তা হলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।

এরপর আবারও যদি সে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তখন আল্লাহর হক হয়ে যায়, কিয়ামতের দিন তাকে ‘রাদগাতুল খাবাল’ পান করানো।

সাহাবিগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ‘রাদগাতুল খাবাল’ কি?
তিনি বললেন, তা হচ্ছে জাহান্নামীদের পুঁজ।”
(সহিহ ইবনে মাজা, হা/২৭৩৮, সহিহুল জামে লিশ শাইখ আলবানী, হা/৬৩১৩ নং হাদিস)

❑ “চল্লিশ দিন সালাত কবুল হবে না” এ কথার অর্থ কি?

● আবু আব্দিল্লাহ ইবনে মানদাহ [মৃত্যু: ৩৯৫ হিজরি] বলেন:
لا يثاب على صلاته أربعين يوماً عقوبة لشربه الخمر ، كما قالوا في المتكلم يوم الجمعة والإمام يخطب إنه يصلي الجمعة ولا جمعة له ، يعنون أنه لا يعطى ثواب الجمعة عقوبة لذنبه .” تعظيم قدر الصلاة ” – 2 /587 ،588

“চল্লিশ দিন সালাত কবুল হবে না” অর্থ: মদপানের শাস্তি হিসেবে চল্লিশ দিনের সালাতের সওয়াব পাবে না। যেমন ফকিহগণ বলেছেন: জুমার দিন খুতবা চলাকালীন যদি কেউ কথা বলে সে জুমা পড়বে কিন্তু তার জুমা হবে না। অর্থাৎ তার এই অপরাধের কারণে তাকে জুমার সালাতের সওয়াব প্রদান করা হবে না।” (তাযীম কাদরিস সালাত ২/৫৮৭ ও ৫৮৮)

● ইমাম নওবী রহ. [মৃত্যু: ৬৭৬ হি: /১২৭৭ খৃ:] বলেন:

“وَأَمَّا عَدَم قَبُول صَلاته فَمَعْنَاهُ أَنَّهُ لا ثَوَاب لَهُ فِيهَا وَإِنْ كَانَتْ مُجْزِئَة فِي سُقُوط الْفَرْض عَنْهُ , وَلا يَحْتَاج مَعَهَا إِلَى إِعَادَة” اهـ .
“আর সালাত কবুল না হওয়ার অর্থ হল, এতে তার সওয়াব হবে না। যদিও ফরয আদায়ের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তা পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন নাই।” (শরহে মুসলিম)
সুতরাং মদ্যপানকারীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে, যথানিয়মে সালাত অব্যাহত রাখা। অন্যথায় সালাত পরিত্যাগের কারণে গুনাহের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাবে। মদপানের সাথে সালাত পরিত্যাগের জন্য কঠিন (কুফরি পর্যায়ের) গুনাহ হবে। কেননা সালাত তার উপর অবধারিত ফরজ এবং ইসলামে পাঁচটি রোকনের অন্যতম। সুতরাং সওয়াব থেকে বঞ্চিত হলেও যথাসময়ে যথানিয়ম পূর্ণ যত্ন সহকারে সালাত আদায় করা আবশ্যক। যেমন: বিশেষ কোন অপরাধের কারণে কোন কোম্পানির পক্ষ থেকে তার কর্মচারীকে কাজ অব্যাহত রাখার শর্তে বেতন থেকে বঞ্চিত করা হয়।
এখান থেকে মদপান ও নেশা গ্রহনের ভয়াবহতা সহজে অনুমান করা যায়। এ সংক্রান্ত বহু হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।

➤ উল্লেখ্য যে, মদ-গাঁজা ও নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা হারাম ও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত (সূরা মায়িদাহ: ৯০-৯১)। ইসলামি ফৌজদারি আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যার সর্বনিম্ন শাস্তি হল, চল্লিশটি চাবুকাঘাত। তবে সরকার প্রয়োজনবোধে তা আশিটি পর্যন্ত প্রয়োগ করতে পারে।

এই পাপকর্মের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করণীয় হল, মদ-নেশা পরিত্যাগ করে সালাত, সিয়াম ও অন্যান্য নেক আমল যথানিয়মে সম্পাদন করার পাশাপাশি লজ্জিত অন্তরে খাঁটি ভাবে আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমনটি না করার অঙ্গীকার করা। তৎসঙ্গে অন্যান্য নেক আমল যথাসম্ভব বেশি পরিমাণে করার চেষ্টা করা। তওবা এবং নেক আমলের বিনিময়ে আল্লাহ তার সকল গুনাহ মোচন করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

❑ সারাংশ:
● মদ-গাজা ও নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা হারাম ও কবিরা গুনাহ।
● এর শাস্তি হল, ৪০ বা ৮০ চাবুকাঘাত করা।
● চল্লিশ দিনের সালাত কবুল না হওয়া।
● আখিরাতে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া।
● এবং জাহান্নামিদের পুঁজ পান করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতিকে, বিশেষ করে যুব সমাজকে মদ, নেশার ধ্বংসযজ্ঞ ও সকল হারাম খাদ্য-পানীয় থেকে রক্ষা করুন। আমীন। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬●●●▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

হাবিব বিন তোফাজ্জল

❝আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনাে সত্য ইলাহ নেই , এবং মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।❞ আমি একজন তালিবুল ইলম ও ফ্রিল্যান্সার। আমি নিজেকে ভুলের উর্ধে মনে করি না এবং আমিই হ্বক বাকি সবাই বাতিল তেমনটাও মনে করিনা। অতএব, ভুলত্রুটি হলে নাসীহা প্রদানের জন্যে অনুরোধ রইল। ― আমাদের পূর্বের সালাফেরা যেসকল বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি করেছেন সেসকল বিষয়ে আমি তাদের অনুসরণকারী।

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button
Close