fbpx
প্রশ্নোত্তর

কারো প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে যদি নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে কী করণীয়?

প্রশ্ন: যদি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন নিকটাত্মীয় অথবা অপরিচিত কারো প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিজের মৃত্যু হয় তাহলে সেটা কি আত্মহত্যার মতো অপরাধ হবে নাকি অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য শহীদ এর মর্যাদা পাওয়া যাবে? অনুগ্রহ করে কুরআন মাজীদ এবং সহীহ হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা দিবেন।

উত্তর:
কোন কোন মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকা থাকলে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মানুষের জন্য তার প্রাণ রক্ষার জন্য চেষ্টা করা ওয়াজিব (অবশ্যকর্তব্য)। এমনকি সালাত রত অবস্থায় থাকলেও সালাত ভঙ্গ করে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করতে হবে যদিও সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। উদ্ধার কাজ শেষ করার পর উক্ত সালাত কাজা পড়তে হবে। কেননা ইসলামে মানুষের প্রাণ রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা বলেন:
مَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا
“আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন সকল মানুষকে বাঁচালো।” (সূরা মায়িদাহ: ৩২)
ইসলামের দৃষ্টিতে যদি কেউ খাদ্যাভাবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তার জন্য বেঁচে থাকার জন্য হারাম খাবারকেও সাময়িকভাবে হালাল করে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু সামর্থ্য না থাকলে অর্থাৎ উক্ত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে বাঁচাতে গেলে যদি নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে নিজের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেওয়া জায়েজ নেই। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ
“আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৯৫)
আর এ কারণে আল্লাহর দরবারে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে না। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে।” (সূরা তাগাবুন: ১৬)

ইমাম শাওকানী বলেন:

لا شك أن إنقاذ الغريق من أهم الواجبات على كل قادر على إنقاذه ، فإذا أخذ في إنقاذه ، فتعلق به حتى خشي على نفسه أن يغرق مثله : فليس عليه في هذه الحالة وجوب ، لا شرعا ، ولا عقلا، فيخلص نفسه منه ، ويدعه، سواء كان قد أشرف على النجاة أم لا، بل ظاهر قوله تعالى: ( وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ) [البقرة: 195]، أنه يجب عليه تخليص نفسه-(.. السيل الجرار المتدفق على حدائق الأزهار (ص: 892))
“নিঃসন্দেহে ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সামর্থবান ব্যক্তির উপর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব (অবশ্যপালনীয়) এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে যদি আশঙ্কা থাকে যে, ডুবন্ত ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরবে এবং সেও তার মতোই ডুবে মরবে তাহলে এই অবস্থায় তার জন্য এটি ওয়াজিব নয়-শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও নয় বা জ্ঞান-বুদ্ধির বিচারেও নয়। এই অবস্থায় সে তাকে ছেড়ে নিজেকে রক্ষা করবে। চাই তার বাঁচার সম্ভাবনা থাকুক অথবা না থাকুক। বরং মহান আল্লাহর বাণী:
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ
“আর তোমরা নিজেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৯৫) এর প্রকাশ্য অর্থ এটাই যে, ডুবন্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে নিজেকে রক্ষা করা তার জন্য ওয়াজিব।” (আস সাইলুল জাররার,পৃষ্ঠা নং ৮৯২)
আল্লহু আলাম।
▬▬▬▬◐✪◑▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
Fb; AbdullaahilHadi
জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

হাবিব বিন তোফাজ্জল

❝আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনাে সত্য ইলাহ নেই , এবং মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।❞ আমি একজন তালিবুল ইলম ও ফ্রিল্যান্সার। আমি নিজেকে ভুলের উর্ধে মনে করি না এবং আমিই হ্বক বাকি সবাই বাতিল তেমনটাও মনে করিনা। অতএব, ভুলত্রুটি হলে নাসীহা প্রদানের জন্যে অনুরোধ রইল। ― আমাদের পূর্বের সালাফেরা যেসকল বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি করেছেন সেসকল বিষয়ে আমি তাদের অনুসরণকারী।

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button