নাসীহাহফাযায়েল

যাদের জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খুলে দেওয়া হবে

আপনার জিজ্ঞাসা  ইসলামিক জিজ্ঞাসা ও জবাব ইসলামিক প্রশ্নোত্তর 

 

১. তাওহীদ বাস্তবায়ন করা, শিরক থেকে দূরে থাকা, রাসুলদের উপর, আসমানি কিতাব সমূহের উপর, শেষ দিবসের উপর ঈমান আনা-
উবাদাহ ইবন সামেত (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন: ‘‘যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, ‘এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর কালেমা যাকে তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য’। আল্লাহ তাকে জান্নাতের ৮টি দরজার যেটি দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে, প্রবেশ করাবেন(সহিহুল বুখারি- ৩১৮০)

 

২. পরিশুদ্ধ ঈমানের বিনিময় জান্নাত-
‘উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি : “ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌ এবং পরকালের প্রতি ঈমান রেখে মারা যাবে, তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতের ৮টি দরজার মধ্যকার যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করো। ” (মুসনাদে আহমাদ- ৯৭, হাদিসটি হাসান সহিহ)

 

৩. ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করা-
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ সুন্দর করে ওযু করার পর যদি বলে-
أَشْهَدُ أَن لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
(আশ্‌হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহূ ওয়া রসূলুহূ)
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল”।
তবে তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খুলে দেয়া হবে (কিয়ামতের দিন), সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম- ৪৪১, হাদিস একাডেমি, পবিত্রতা অধ্যায়)
#হাদিসে শুধু পড়তে বলা হয়েছে, আসমানের দিকে তাকিয়ে পড়া বা আরও কিছু নিজেদের থেকে মনগড়া কাজ এর মধ্যে চালিয়ে দেওয়া যাবে না, ওযু শেষ হলে স্বাভাবিকভাবে কালেমা শাহাদত পড়বেন।

 

৪. সলাতের হিফাজত করা ও সাতটি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা-
আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে বললেনঃ আমি কসম করছি, আমি কসম করছি, আমি কসম করছি, এরপর তিনি মেম্বার থেকে অবতরন করে বললেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহন কর, তোমরা সুসংবাদ গ্রহন কর, নিশ্চয় যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করবে ও কবিরা গুনাহগুলো থেকে বিরত থাকবে সে ইচ্ছামত জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। কবিরা গুনাহগুলো হলঃ পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, আল্লাহর সাথে শিরক করা, মানুষকে হত্যা করা, সতি-সাধী নারীদেরকে জেনার অপবাদ দেওয়া, ইয়াতিমের মাল ভক্ষন করা, যুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সুদ ভক্ষন করা।(তবরানি, হাদিসটি সহিহ)

 

৫. জোড়ায় জোড়ায় দান করা-
আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “ যে কোন মুসলিম বান্দা তার প্রত্যেক রকম মালের এক জোড়া আল্লাহ্‌র পথে দান করবে নিশ্চয় জান্নাতের দ্বাররক্ষীগন তাকে স্বাগতম জানাবেন এবং প্রত্যেকেই তাকে নিজের কাছে যা আছে সেদিকে আহবান করবেন । আবু যার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসুল ! সেটা কিভাবে ? নাবী (সাঃ) বললেন : যদি কারো উট থাকে তাহলে দুটো উট দান করবে আর যদি গরু থাকে তবে দুটো গরু দান করবে ।” (নাসায়ী-৩১৩৫, হাদীস সহীহ)
অর্থাৎ যাই দান করবে জোড়ায় জোড়ায় যেমন ১ টা কুরআন না দিয়ে ২ টা কুরআন দান করবে, ১ সেট হাদিস না দিয়ে ২ সেট দিবে, ১ কেজি না দিয়ে ২ কেজি দিবে, ১ টা ছাগল না দিয়ে ২ টা দিবে অর্থাৎ এভাবে জোড়ায় জোড়ায় দান করার শর্ত দেওয়া হয়েছে এই হাদিসে, বিজর দান করাতে কোন সমস্যা নেই তবে এই ফজিলতের জন্য জোড়ায় জোড়ায় দান করা শর্ত

 

৬. সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারন করা-
কুবরা মুযানী হতে বর্ণীত, এক ব্যক্তি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসত এবং তার সাথে তার একটি ছেলেও থাকতো। একদিন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তাকে (ছেলেকে) ভালোবাসো? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর পর আপনাকে ভালোবাসার মতই আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর একদিন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছেলেটিকে দেখতে পেলেন না। জিজ্ঞেস করলেন, অমুকের ছেলেটি কোথায় গেলো? সাহাবিগন বললেন, হে আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সে মারা গেছে। তখন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অহে তুমি কি এটা ভালোবাসো না যে, তুমি জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে যাও না কেন, সেখানে তোমার জন্য সন্তানকে অপেক্ষা করতে দেখবে। এসময় এক ব্যক্তি বলল, এই সুযোগ শুধু তার জন্য নাকি আমাদের সকলের জন্য? রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমাদের সকলের জন্য (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ছহীহ, মিশকাত হাদিস- ১৭৫৬)
এই হাদিস দ্বারা বুঝা গেলো, যেসব ছেলে মেয়ে বাল্যবস্থায় মারা যায়, তারা জান্নাতের দরজায় অপেক্ষমান থাকবে। তারা পিতামাতা ছাড়া জান্নাতে যাবে না তবে পিতামাতাকে সন্তানের মৃত্যুতে এই বিশাল প্রতিদানের আশায় সবর করতে হবে। সন্তানের মৃত্যুতে কষ্ট হবে, চোখ দিয়ে পানি বেরবে কিন্তু জোরে কান্নাকাটি, বুক চাপড়ানো, কাপড় ছেড়া, মুখে আঘাত করা অর্থাৎ সীমালঙ্ঘন করে বিলাপ করলে এই প্রতিদানের বিপরিতে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে তাই সবর করতে হবে আর আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা মেনে নিতে হবে তাহলেই এই বড় পুরুস্কার রয়েছে আখিরাতে পিতামাতার জন্য।

 

৭. আত্মীয় বা মুসলিম ভায়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা-
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। যে সব অপরাধী আল্লাহর সাথে শির্‌ক করেনি তাদেরকে ক্ষমা করা হয়। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি সম্পর্কে (আল্লাহ্ বলেন) : এদেরকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে, এদেরকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে, এদেরকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে। (সহিহ মুসলিম- ৬৭০৯)

 

৮. চারটি কাজ ভালো ভাবে করা-
আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন ,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ তোমাদের প্রতি নির্ধারিত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত কায়েম কর, রামযান মাসের ছিয়াম পালন কর, তোমাদের মালের যাকাত প্রদান কর এবং তোমাদের উদ্ধ্তন কর্মকর্তা যা আদেশ করেন তার আনুগত্য কর । তাহলে তোমার ইচ্ছা মত তোমাদের প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে ” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ছহীহ ,আলবানী ,তাহক্বীক্ব মিশকাত- ৫৭১)

 

৯. মহিলাদের বিশেষ চারটি কাজ করা-
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন: ‘‘যদি কোন মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমযানের রোযা পালন করে, লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে’’। (মুসনাদে আহমাদ- ১৬৬১, ইবনু হিববান- ৪১৬৩, তবারানি কাবির- ৯৯১, শাইখ আলবানী (রঃ) হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন)

 

▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
পোস্ট বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতায়- শাইখ আখতারুল আমান মাদানি
(লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব)
দাঈ ও ইমামঃ তাওজীহ মানুবী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়, কুয়েত।
গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটি শেয়ার করে দ্বীনই কাজে শরিক হতে পারেন।

 

 

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button