অন্যান্য

শিক্ষা বা অধ্যয়নের অজুহাতে স্বলাত ত্যাগ করা

প্রশ্ন: আমি কিভাবে কাযা (সময় থেকে বিলম্বিত) স্বলাত আদায় করব, যেহেতু আমি পড়ালেখার কারণে অনেক সময় স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করি? যেমনটি আপনারা জানেন যে, অমুসলিম রাষ্ট্রে স্বলাতের সময় পাওয়া যায় না; আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করুন?

উত্তর: আলহামদু লিল্লাহ।

 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (ﷺ) প্রত্যেক জায়গার জন্য স্বলাতের সময়সমূহ সুস্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছেন; আর ছাত্রদের জন্য আবশ্যক হল, তারা অন্যান্য মুসলিমদের মত স্বলাতকে তার সময়মত আদায় করবে; আর পড়ালেখার অজুহাত দিয়ে স্বলাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করা বৈধ নয়; বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার বাণীর যথাযথ আ‘মাল করে স্বলাতকে যথাসময়ে আদায় করা ওয়াজিব (আবশ্যক); তিনি বলেছেন:

﴿حَٰفِظُواْ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلۡوُسۡطَىٰ وَقُومُواْ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ٢٣٨﴾[البقرة:٢٣٨]

“তোমরা স্বলাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী স্বলাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা দাঁড়াবে বিনীতভাবে।” – (সূরা আল-বাকারা: ২৩৮); আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا ١٠٣ ﴾ [النساء: ١٠٣]

“নির্ধারিত সময়ে স্বলাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।” – (সূরা আন-নিসা ১০৩); আর তাতে যথাযথ আ‘মাল হবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদিসসমূহের প্রতি, যাতে তিনি স্বলাতের সকল সময়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন।

আর ছাত্রদের মধ্য থেকে যারা জানে না তারা যারা জানে তাদের নিকট প্রশ্ন করবে, আরও প্রশ্ন করবে তার ঐসব বন্ধুবান্ধবকে, যারা স্বলাতের সময়সমূহ জানে ও বুঝে, এমনকি যত্নসহকারে সময়মত স্বলাত আদায় করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:

«العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر ». ( أخرجه الإمام أحمد و اهل السنن الأربعة).

“আমাদের ও তাদের মাঝে যে প্রতিশ্রুতি বা চুক্তি রয়েছে, তা হল স্বলাত; সুতরাং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করে, সে কুফরী করল বা কাফির হয়ে গেল।” ইমাম আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ প্রমূখ বিশুদ্ধ সনদে হাদিসখানা বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম র. তার সহীহ গ্রন্থে জাবের ইবন আবদিল্লাহ η থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلاَةِ ».( أخرجه مسلم).

“বান্দা এবং শির্ক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে স্বলাত ত্যাগ করা।” – (মুসলিম, হাদিস নং- ২৫৬); আর এই ব্যাপারে আরও অনেক হাদিস রয়েছে। আল্লাহ সকলের অবস্থাকে সংশোধন করে দিন।

সূত্রঃ শাইখ ইবনু বায; মাজমু‘উ ফতোয়া (مجموع فتاوى ): ২ / ১৪১

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

Mahmud Ibn Shahid Ullah

"যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন মুসলিম, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?" আমি একজন তালিবুল ইলম। আমি নিজেকে ভুলের উর্ধ্বে মনে করি না এবং আমিই হক্ব বাকি সবাই বাতিল এমনও ভাবিনা। অতএব, আমার দ্বারা ভুলত্রুটি হলে নাসীহা প্রদানের জন্যে অনুরোধ রইল। ❛❛যখন দেখবেন বাত্বিল আপনার উপর সন্তুষ্ট, তখন বুঝে নিবেন আপনি ক্রমের হক্ব থেকে বক্রপথে ধবিত হচ্ছেন।❞

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button