সালাত / নামায

প্রশ্ন : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে ফজরের ছালাতের জামা‘আত চলা অবস্থায় সুন্নাত পড়া হয়। এটি কি শরী‘আতসম্মত?

উত্তর : ইক্বামত হওয়ার পর এবং রীতি মত জামা‘আত চলছে এমতাবস্থায় বহু মসজিদে ফজর ছালাতের সুন্নাত আদায় করতে দেখা যায়।

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান লিখেছেন, ‘জামাআত শুরু হওয়ার পর কোন নফল নামায শুরু করা জায়েয নয়। তবে ফজরের সুন্নত এর ব্যতিক্রম’ (তালীমুস্-সালাত, পৃ. ১৭৭)। অথচ উক্ত দাবী সুন্নাত বিরোধী। কারণ যখন ফরয ছালাতের ইক্বামত হয়ে যায়, তখন সুন্নাত পড়া যাবে না।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ صلي الله عليه وسلم قَالَ إِذَا أُقِيْمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوْبَةُ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যখন ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হবে তখন ফরয ছালাত ব্যতীত আর কোন ছালাত নেই’ (ছহীহ মুসলিম হা/১৬৭৮-১৬৭৯ ও ১৬৮৪, ১/২৪৭ পৃ., (ইফাবা হা/১৫১৪ ও ১৫২১) ‘মুসাফিরদের ছালাত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৯; ছহীহ বুখারী হা/৬৬৩, ১/৯১ পৃ., (ইফাবা হা/৬৩০, ২/৬৪ পৃ.) ‘আযান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৮; মিশকাত হা/১০৫৮, পৃ. ৯৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৯৯১, ৩/৪৬ পৃ., ‘জামা‘আত ও তার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)।

উল্লেখ্য যে, ‘ফজর ছালাতের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত ছালাত নেই’ (ছহীহ বুখারী হা/৫৮৬, ১/৮৩ পৃ.; মিশকাত হা/১০৪১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৯৭৪, ৩/৩৭ পৃ.) এই ব্যাপক ভিত্তিক হাদীছের আলোকে বলা হয়, ফজর ছালাতের সুন্নাত আগে পড়তে না পারলে, সূর্য উঠার পর পড়তে হবে। সেকারণ উক্ত আমল সমাজে চালু আছে। অথচ উক্ত হাদীছের উদ্দেশ্য অন্য যেকোন ছালাত। কারণ ফজরের পূর্বে সুন্নাত পড়তে না পারলে ছালাতের পরপরই পড়ে নেয়া যায়। উক্ত মর্মে স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।

عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَأَى رَسُوْلُ اللهِ صلي الله عليه وسلم رَجُلًا يُصَلِّى بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلي الله عليه وسلم صَلَاةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّىْ لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الْآنَ فَسَكَتَ رَسُوْلُ اللهِ

ক্বায়েস ইবনু ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের ছালাতের পর এক ব্যক্তিকে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন, ফজরের ছালাত দুই রাক‘আত। তখন ঐ ব্যক্তি বলল, আমি ফজরের পূর্বের দুই রাক‘আত আদায় করিনি। তাই এখন সেই দুই রাক‘আত আদায় করলাম। অতঃপর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকলেন (আবুদাঊদ হা/১২৬৭, ১/১৮০ পৃ.; মিশকাত হা/১০৪৪, পৃ. ৯৫, সনদ ছহীহ; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৯৭৭, ৩/৪০ পৃ., ‘ছালাতের নিষিদ্ধ সময়’ অনুচ্ছেদ)।

অতএব প্রচলিত অভ্যাস পরিত্যাগ করে সুন্নাতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

 

সূত্র: মাসিক আল-ইখলাছ।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

Mahmud Ibn Shahid Ullah

"যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন মুসলিম, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?" আমি একজন তালিবুল ইলম। আমি নিজেকে ভুলের উর্ধ্বে মনে করি না এবং আমিই হক্ব বাকি সবাই বাতিল এমনও ভাবিনা। অতএব, আমার দ্বারা ভুলত্রুটি হলে নাসীহা প্রদানের জন্যে অনুরোধ রইল। ❛❛যখন দেখবেন বাত্বিল আপনার উপর সন্তুষ্ট, তখন বুঝে নিবেন আপনি ক্রমের হক্ব থেকে বক্রপথে ধবিত হচ্ছেন।❞

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button